আমি স্বরাজ । আপনি আমাকে ‘সাজু’-ও বলতে
পারেন ।
যাদবপুর ইউনিভার্সিটি-র ইলেক্ট্রিক্যাল
ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র । লেখার ঝোঁক ছোট থেকেই । অনুপ্রেরণা, আমার পিতামহ । বাবা যুক্ত
সংগীত জগতের সাথে….সেই টানে সেখানেও আছি ।
দুর্গাপূজার ঠিক আগেই আমার নিজের বই :
“মনের কিছু কথা” প্রকাশিত হতে চলেছে ।
ই-পত্রিকা “মনের কোণে নিজের কলম” সেই অর্থে
আমার প্রথম সোপান প্রকাশনার পথে ।
‘প্রকৃতি’…‘ঈশ্বর’...’ভালোবাসা’…’সুখদুঃখ…’আধ্যাত্মিক’…এবং
আবোল তাবোল, হিজিবিজি যা ইচ্ছে লিখে ফেলি । মিলান্তিক কবিতা লিখতেই পছন্দ করি ।
“মনের কোণে নিজের কলম” : এই পরিবারের সাথে
যুক্ত তিন সপ্তাহ আগে । এখন মনে হয়...এই পরিবার, আমার নিজের পরিবার । একে আমি ভীষণ
ভালবাসি । আর সারা জীবন এর সদস্য হয়ে থেকে যেতে চাই ।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
সুপ্রভাত
যামিনী
টুটিল এবে কিরণ প্লাবনে
পূর্বে
দীপিছে ভানু হরষিত মনে ।
জীমূত
অচল তলে
অম্বর
অঞ্চলে
বরিষে
আলোক রাশি অসীম গগনে ।
জাগিল
কুসুমকলি কমল-সরবরে ,
লহরী
কল্লোলে বেপনে দীঘি নীরে ।
কূজনে
দশদিশে
অনিল
পবন শ্বাসে
লোহিত
নীরজ জাগে দিগন্ত পারে ।
জাগুক
অন্তর মম এ সুপ্রভাতে,
আশিস
নিহারে নিষিক্তি এ প্রাতে ।
মানসে
মরীচি তব
আমর্শি
নব নব,
আরোহণি
সমুখ পানে স্ব-প্রত্যয় সাথে ।।
সব পথের মিলন ক্ষেত্র
দিগন্তের
নীল রেখা মেখে
যে
মন্দির দেখ ঐ দূরে ,
শঙ্খের
নিনাদে ওঠে ডেকে
জাগে
সুর বাজিছে কাঁসরে ।
আর
হেথা বসে বসে শুনি
বাতাসেতে
ডানা মেলে আসে
মোল্লার
মসজিদে আজানের ধ্বনি,
দুই
নয়নের মাঝে দুই পথ ভাসে ।
সে
প্রার্থনা রব গেল থেমে
চারিদিক
ধ্বনিয়া ওঠে কোথা ,
গির্জার
প্রার্থনা সুর নামে
যীশুর
চরণে যেথা পেরেক গাঁথা ।
অনন্ত
কাল তাই বলে ওঠে
ব্রাহ্মণের
মন্ত্র, মোল্লার হাদিশ ,
বিশপের
যিশু তত্ত্ব তিন মুখে ফোটে
সে
কি তিন পৃথক পথ নির্দেশ ?
উত্তর
মেলেনি, মেলেনি জবাব কোনো ,
শুধু
মিলেছে ধর্মের চক্ষু রাঙানি ;
তাই
বুঝি কেউ প্রশ্ন করেনি একদিনও ,
মন
ছোটে ভেদি কৌতূহলের বনানী ।
যুগে
যুগে এল মহাপুরুষের দল ,
অর্বাচীনকে
নিয়েছে জ্ঞানের কোলে ,
“পৃথক
পথ পৃথক সত্ত্বা ; এক গন্তব্য স্থল”,
বলেন
তাঁরা তপস্যার মহাবলে ।
উপনদী
গুলি এক নদে মেশে
সব
স্রোত মিশে একই প্রবাহন,
সাগরের
পায়ে তরী অবশেষে
মহাজ্ঞানে
করে নিজেরে অর্পণ ।।
অভিসার
মোর
হৃদয়ের পাপড়ি শত , মাখিয়ে পরাগ রেণু যত ,
তোমার
তরে বসে আছি আসবে যখন উড়ে ,
রামধনুতে
রাঙিয়ে ডানা , মধুর লোভে দেবে হানা ,
তাই
ভাবি আর শুধুই চেয়ে নীল দিগন্ত দূরে ।
বারতা
দিলাম গন্ধ ঢেলে , পবন তারে পৌঁছে দিলে ,
জানি
তুমি আসবে ছুটে ভালোবাসার টানে ।
তাই
তো সেজে সকাল থেকে , রবির শুভ্র কিরণ মেখে ,
অপেক্ষাতেই
কাটল বেলা তোমার পথ পানে ।
অবশেষে
সূর্য যখন , ক্লান্ত চোখে নিদ্রা মগন ,
বৃথায়
গেল সারাটা দিন তোমারই আশায় ;
পশ্চিমেতে
এক ফালি চাঁদ , পাতল যখন সায়ন ফাঁদ ,
আটকালো
না অভিসার আমার ভালবাসায় ।
মনের
বেদন পাপড়ি দলে , জোর হারালাম অবহেলে ,
ঝরতে
যাব বৃন্ত থেকে এমন ভেবে কিছু ,
হঠাৎ
দেখি সাঁঝের কালোয় , উড়ে এল চাঁদের আলোয় ,
ভালোবাসার
বাতাস বুঝি এল তারই পিছু ।
প্রজাপতির
বসন ছাড়ি , মথের বেশে দিলে পাড়ি ,
লাজুক
তুমি আমার চেয়ে ওগো প্রিয়তম ।
দিনের
আলো না থাক তাতে , কি এসে যায় এমন রাতে ,
বৃথাই
অভিমানী আমি মোরে তুমি ক্ষম ।
দূর
আকাশের চাঁদের ফালি , অভিসারের কিরণ ঢালি ,
বাঁধলো
তোমায় এমন রাতে আমার পাপড়ি দলে ।
আমার
কোমল মলিন সাজে , তোমার ভালোবাসার মাঝে ,
রজনীকে
বলো না, যেন না যায় সহসা চলে ।।
বিশ্বপিতা
তোমার
আশিসে আকাশ চিরে রবির কিরণ এসে
জাগিয়ে
তোলে ভোরের কুসুম কিশলয়ের পাশে ।
তোমার
আশিসে ঢেউ জাগে নীল মহাসাগরের বুকে,
দিশে
হারা হয়ে বাতাস যে বহে দিগন্ত হতে দিকে ।
তোমার
সৃজন হৃদের ছন্দে অঙ্কুরিত বীজে,
ভালোবাসার
শিশিরে শিশিরে ভোরের আলোয় ভিজে ।
পাহাড়
বনানী মরুতে সাগরে অসীমে দূরদিগন্তে ,
তুমি
আছো প্রভু তুষারে অনলে পৃথিবীর মহা প্রান্তে ।
সবার
হৃদয়ে প্রাণে ও মননে সবার শ্বাস প্রশ্বাসে ,
জ্ঞানের
আলোকে, তুমি আছো সদা সবার চির বিশ্বাসে ।
যত
দিন বাঁচি এ ধরণী মাঝে সততার পথে সদা থাকি ;
মরণের
ক্ষণে পাই যেন দেখা তোমায়, মুদিলে দুই আঁখি ।।

খুব সুন্দর লেখনি প্রতিটি কবিতা..... আন্তরিক অভিনন্দন
ReplyDeleteমন মুগ্ধকর
ReplyDeleteসুন্দর ভাষা মনকাড়া কবিতা....অনেক শুভেচ্ছা
ReplyDeleteসুন্দর লেখা, অনেকটা CLASSICAL touch, ভালো লাগল, ......... শুভেচ্ছা নিও!
ReplyDeletethank u........khub bhalo laglo tomader feed back....
ReplyDeletelekhonite barbar ekta jinis mon karlo, seta kobir vashar adhipotto. Ek kothay darun....!!
ReplyDeleteAapnar lekhay vasar aaloron pelam....osadharon.
bah ! bes laglo...
ReplyDeletebesh valo laglo saju dada apnar protiti kabita
ReplyDelete