স্বরাজ দত্ত


জন্ম কলকাতার উপকণ্ঠে লেকটাউন- পাতিপুকুর অঞ্চলে । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতকতা লাভের পর বিভিন্ন পেশায় নিজেকে যুক্ত রাখার সুবাদে মানুষকে দেখার সুযোগ ঘটেছে বিভিন্ন আঙ্গিকে । পড়াশুনায় বিজ্ঞান শাখার ছাত্র হলেও সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ খুব ছোটবেলা থেকেই । রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত-র কবিতা আবৃত্তির থলিতে ভরে শুরু হয়েছিল কবিতার প্রতি ভালবাসা । সেই শুরু, কবিতা লেখার মক্স শুরু হয় স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ।
বর্তমানে সরকারী জল বিভাগে কেমিস্ট হিসেবে কর্মরত । জন-বিজ্ঞান আন্দোলনের সৈনিক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি । কারণ একজন বিজ্ঞান কর্মী হওয়ার সুবাদেই প্রকৃতি আর প্রাণ কে চেনার সুযোগ ঘটেছে নতুন করে, গভীর ভাবে । কোনও বিশেষ ধারায় নিজেকে ঢালতে পছন্দ করিনা ।
ছাত্রাবস্থা থেকেই লেখার হাতেখড়ি, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত লেখার সুযোগ পেয়ে ধন্য । ২০১২ সালে, “মনের কোণে নিজের কলম”-এর সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আসে । ফেসবুকে কবিতা সংক্রান্ত অসংখ্য গ্রুপ আছে । কবিতা প্রেমি হিসেবে অনেক গ্রুপে যুক্ত হওয়ার সুযোগ ও ঘটেছে, কিন্তু অত্যন্ত সচেতন ভাবে একথা বলতেই হয় যে "মনের কোণে নিজের কলম"- একটি জীবন্ত গ্রুপ । এই গ্রুপে শুধু শখের কবিতা পোস্ট করার মধ্যেই সদস্য ও অ্যাডমিনদের দায়িত্ব শেষ হয়না । মান অনুযায়ী প্রতিটি কবিতা পাঠকের মুল্যবান মতামত ও ভালবাসা পায় । অ্যাডমিনরা ভীষণ ভাবেই গ্রুপের প্রতি দায়বদ্ধ । "মনের কোণে নিজের কলম"- এই কারণে আরও ভাল লাগে যে প্রতিনিয়ত সজীব থাকার জন্য নিত্য নতুন চিন্তা ও প্রয়োগের একটা প্রচেষ্টা যা সদস্যদের উজ্জীবিত করতে সাহায্য করে । গ্রুপের ব্লগটি এক কথায় অসাধারণ একটি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন । আগামীতে গ্রুপ ও ব্লগ উভয়ের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি । এই গ্রুপের একজন সদস্য হিসেবে গর্ব অনুভব করি ।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

(অফিস যাওয়া-আসার সময় নিত্যযাত্রী হিসেবে বেশ খানিকটা সময় কাটে স্টেশনে। প্রায় প্রতিদিন চোখের সামনে ঘটে এক – একটি চলচিত্র বা ধারাবাহিক নাটকের পর্ব। চরিত্রেরা বদলে ফেলে নিজেদের। তাদেরই মধ্যে কিছু চরিত্র অজান্তেই জায়গা করে নেয় মনের ক্যানভাসে। অজান্তেই চোখ খুঁজে ফেরে তাঁকে, তেমনি একটি উজ্জ্বল চরিত্রের সমাপতন আমার ডাইরির পাতাতে উঠে এল..............., কবিতা নয়, শুধুই ............... একটি চরিত্রের অবসানের অনুভুতি)  

একটি চরিত্রের অবসান

একটু আগেই পরিপূর্ণ যতিচিহ্ন আঁকা হয়েছে
তাঁর চলার পথে।

সেই তাচ্ছিল্যভরা মুখের ভঙ্গিমা
আজ চুমু খাচ্ছে মাটিকে।

সাবওয়ের কোনায়, বা
ওভার ব্রিজের সিঁড়িতে
ক্যামেরা বাবুদের জন্য ক্লোজআপ
বা
আর্ট কলেজের হবু শিল্পীদের জন্য
লাইভ মডেল
আজ শুধুই স্থাণুবৎ
একটুও নড়ছেনা।।

নিজের রূপের সাথে যুদ্ধ ছিল,
ফটোগ্রাফারের চাহিদায় –
বুকের আঁচল খসাবার স্পর্ধা ছিল,
বাঁকা প্রস্তাবের ফিরতি
ভদ্রলোকের মুখোশ খোলার অহং ছিল,
শুধু একটি হুইসেলের পর –
সব যুদ্ধ গেছে ‘ইঙ্গিতে থামিয়া’।

আজ আর নেই
লেন্সের চোখে
যৌন উত্তাপ খুঁজে বিক্রির ফটোশুটার।
‘ইস্‌’ শব্দে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে চলে গেছে
ভাবী শিল্পীকুল ।
শুধু ওভার ব্রিজের নীচে টাঙানো
ফ্লেক্সের দেওয়ালের ভিতর থেকে
দুটি কচিহাত আর একরাশ কান্না
ডিঙ্গিয়ে আসতে চাইছে রেল লাইনের বাঁধা ।

ঘুমিয়ে আছে চরিত্র ।
ব্যস্ত স্টেশনে –
সে আর দড়ির ওপর হাঁটবেনা,
ছুরি লাগানো আগুন রিঙে
আর শরীর গলাবেনা,
চেটেপুটে খাওয়া হিংস্র চাউনি
আর বাঁচিয়ে বাঁচবেনা ।

ঠিকানা বিহীন বেদুইন
আজ লাইনের পাশে প্রাণহীন ।

তুমিই জানো,

দুঃখে –
তোমার নরম বুকে মাথা রেখে
ডুবে গেছি,
হারিয়ে গেছি তোমার আঁচলে,
বার বার আশ্রয় দিয়েছ তুমি
চিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায়,
তোমার ওম –
আমার সমস্ত জমাট বাঁধা কষ্টকে
জলীয় করেছে,
আমার দগ্ধ শরীরকে জড়িয়ে
ভাসিয়ে নিয়ে গেছে স্বপ্ন সাগরে ।
ক্রমশ বড় অচেনা হয়ে যাচ্ছ তুমি !
রোজ বদলে যাচ্ছ একটু করে,
তোমার শরীরে দম্ভের নিয়ন আলোর দ্যুতি,
তোমার নিঃশ্বাসে –
বিদেশী পানীয়র টাটকা গন্ধ,
তোমায় ঘিরে বাঁচতে আসে
সুখ খোঁজা – সুখ পাখিরা ।
টাকা ওড়ে,
নেশা পোড়ে,
কাঁটা ঘোরে ।
ক্রমশ বড় অচেনা হয়ে যাচ্ছ তুমি – রাত্রি !!

মূল্যবোধ

গোটা একটা দিনকে
ডাইরির পাতায় ভরে ফেলার ইচ্ছেটাকে
সরিয়ে রাখলাম ।
প্রথম বর্ষা দিনে
পুরনো এক বৃষ্টিকে খুঁজতে গিয়ে
অনুভব করলাম
এক অদ্ভুত সিক্ততা ।
ভাবলাম, জানলার আগল ঠেলে
নৃত্যরত অফুরন্ত মণিকাঞ্চনের সোহাগে
মাখামাখি পুরনো আর নতুন বৃষ্টি ।
হঠাৎ চোখে পড়ল –
আমার লেখা ‘ছাতা’-র নীচে
পুঞ্জিভূত কয়েকটি ফোঁটা ।
ওরা আপ্রাণ চেষ্টা করছিল
‘ছাতা’-র আশ্রয়ে নিজেদের রক্ষা করতে ।
আমি আঙুল ছোঁয়ালাম,
সমস্ত শক্তি দিয়ে ওরা উঠে এল,
আমি জিভে ছুঁলাম –
নোনতা স্বাদ ।
পুরনো সমস্ত ডাইরির পাতাগুলো
ছুঁয়ে দেখলাম,
লাল-সবুজ-নীল-কালো
কেউ ওরা নেই ভালো ।
অক্ষর – শব্দ – বাক্য জাবাব চায় –
‘বেঁধেছ কেন ? বেঁধেছ কেন ?
একটা দিনের মূল্য জানো ??’
তোমার কাছে একটি তারিখ
শুধুই নিজের দুঃখ – সুখ ।
মনের মত সাজিয়ে লেখো
এটাই তোমার আসল অসুখ ।



17 comments:

  1. Swaraj babu apni really khub sundor lekhen......khub bhalo

    ReplyDelete
    Replies
    1. Onek Onek Dhonnyobad Swaraj Samanta..........,

      Delete
  2. মনকাড়া লেখনি সধারনের মধ্যে লুকিয়ে অসাধারন......শুভেচ্ছা রইল

    ReplyDelete
    Replies
    1. Onek Dhonnyobad Tapasi Bhowmick Didi, Prerona pelam......., agami dine pashe thakben ai asha roilo.

      Delete
  3. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete
  4. tomar lekha niye notun kore bolle onek kothai bola jabe kintu ekta kotha ghure fire asbe je ekta socheton shilpi sottwa jokhon kobita lekhe tokhon kobitati swabhabotoi jibonto hoye othe ar tomar lekhay sei shilpir uposthiti ter pai.

    ReplyDelete
    Replies
    1. Probuddha Parashar Dada, amar antorik Suvechchya neben, apni je bhabe bollen....... ami agamir roshod pelam. Chesta thake Hridoy r Mostisko ke ek sutoi ganthar. Apni Sahos dilen........, Onek Onek Dhonnyobad, Agami dine pashe thakar arzi roilo.

      Delete
  5. খুব ভালো লাগলো কবিতাগুলো....অভিনন্দন জানাই

    ReplyDelete
  6. Onek Dhonnyobad Sreelekha Mukherjee Madam. Apnar / apnader valo laga amar patheo.......

    ReplyDelete
  7. খুব ভালো লেখা ... অসাধারন ... অনেক শুভেচ্ছা রইলো :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. Onek dhonnybad Rita Ghosh Madam, apnar/apnader suvechchya e amar sombol.

      Delete
  8. opurbo lekha.....mugdho holam.

    ReplyDelete
  9. Onek Onek Dhonnyobad Ila Sarkar Madam, Agami te pase thakben ei asha roilo.

    ReplyDelete
  10. Vison valo laglo dada apnar lekha. mon chunye jay porle.

    ReplyDelete
  11. Onek Onek Dhonnyobad Kazi Haque Vai......, pase thakben......

    ReplyDelete