মোঃ আব্দুল করিম


আমি যখন নবম শ্রেণীতে পড়ি, তখন থেকেই লেখার হাতেখড়ি । মাঝে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল লেখা । নতুন করে দুবছর হল আবার শুরু করেছি, নতুন উদ্যমে । সব ধরণের লেখা লিখলেও, পল্লী জীবনকে নিয়ে লিখতেই বেশী ভালোবাসি ।
আমার একটি বই : “মেঘের আড়ালে নীল” ঢাকা বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে, এই বছরেই...২০১৩ ।
বিগত ছয় মাস হল, আমি যুক্ত “মনের কোণে নিজের কলম”-এর সাথে । পরিচয় করিয়ে দেন সবার সাথেই, মাননীয়া রীতা ঘোষ । এখানে অনেক গুণীজনের পদচারণ, আমাকে উদবুদ্ধ করে প্রতিনিয়ত !! 

:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

নাই ওর

ও গাড়িয়াল একটু দাঁড়াও, শোনো আমার কথা,
দিও খবর হিজলতলি, যাও যদি বা সেথা ।
সেথায় আমার বাবার বাড়ি, কইও তারে গিয়া,
জলদি করে এসো বাবা, নাইওর যাও গো নিয়া ।
ছয় মাস হয় সব ছাইড়া, এলাম পরদেশে,
অনেক স্মৃতি জেগে ওঠে, মনের কোনে ভেসে,
কতদিন হয় দেখি নাই, বাবা মায়ের মুখ,
দেখব আবার কবে তাদের, মনে বড়ই দুখ ।
আপন মুখের অন্য দিয়ে, করেছে আমায় লালন,
ছেড়ে তাঁদের যেতে হবে, এটাই নাকি চলন ।
কত আদর বাবা মায়ের, স্নেহের বাঁধন ছিঁড়ে,
আজকে আমি বধু বেশে, অচেনা এক নীড়ে ।
ছোট বোনরে বলবে গিয়ে, আমার আদর দিয়ে,
বোনটি তার ভালই আছে, শ্বশুর বাড়ি গিয়ে ।
আমার জন্য মনটি খারাপ, যেন না সে করে,
আসলে বাবা যাব নাইওর, আমি ক'দিন পরে ।
কতদিন হ'ল দেখিনি আমি, ছোট ভাইয়ের মুখ,
দেখলে তারে কেটে যেত, আমার সকল দুখ।
মুখে তুলে না খাওয়ালে, খেতো না সে ভাত,
ঘুম পাড়ানি গান শুনে তার, কেটে যেত রাত।
সেই আমি আজ পরের ঘরে, করছি পরকে আপন,
নারীর জন্য এটাই বিধান, বুঝছি এসে এখন ।
পাড়া পড়শীর অনেক কথা, পড়ছে আজি মনে,
সারাটা দিন হই হুল্লোর আর, খেলা তাদের সনে ।
করতাম সবে বনভোজন, আম বাগানের তলে,
মাছ ধরতাম আঁচল পেতে, বড়াল নদীর জলে ।
তাদের সনে হয় যদি ভাই, কভু তোমার দেখা,
বোলো তাদের ভুলিনি আমি, শৈশব স্মৃতি রেখা ।
আবার বলি ও গাড়িয়াল, জলদি করে যাও,
বাজানেরে কইও খবর, যদি দেখা পাও।
চেয়ে আছি পথের দিকে, নাইওর যাবার তরে,
মনটা আমার ছটফট করে, যেতে বাবার ঘরে ।

অপরূপা পল্লী

জন্ম আমার পল্লী গাঁয়ে, হয়েছি বড় সেথা,
মরণ যেন হয়গো আমার, মাটির গন্ধ যেথা ।
মুক্ত হাওয়ায় শ্বাস নেওয়া, মুক্ত কন্ঠে গান,
শীতল ছায়ায় গাছের তলে জুড়িয়ে যেত প্রাণ।
হাসনা হানার সুবাস এখন পাই না আমি আর,
ঘুম আস্ত রাতে আমার সুবাস পেয়ে যার ।
জোনাক জ্বলা নিঝুম রাত হয়না দেখা আর,
ল্যাম্পপোষ্টের নীচে এখন সময় করি পার।
ঝিঁঝিঁ ডাকে করুন সুরে রাত্রি হলে নিঝুম,
পাখির ডাকে ভোর বেলাতে ভাঙত আমার ঘুম।
সকাল বেলা শিশির ভেজা দুবলা ঘাসের পরে,
জড়িয়ে নিত বুকে আমায় অনেক আপন করে ।
আর হয়না দেখা আমার ভোরের রাঙা রবি,
শহরেতে এসে এখন হারিয়ে গেছে সবই ।
অস্ত যাওয়া সূর্য এখন আর পড়ে না চোখে,
হয়না যাওয়া আগের মত পাড়া পড়শীর দুখে ।
ইঁট পাথরের মাঝে এখন ব্যস্ত শহর কাটে,
হয়না যাওয়া এখন আর হিজলতলির ঘাটে ।
সবুজ ঘেরা পল্লী তোর নেইযে তুলনা,
যেথায় থাকি কোনোদিনও তোকে ভুলবো না ।
রঙ্গে ভরা শহর থেকে পল্লীই আমার প্রিয়,
যখনই আসি তোমার কাছে বুকে তুলে নিও ।

রাবেয়া

বড়াল নদীর ঐ পাড়ে রাবেয়াদের গ্রাম,
শস্য শ্যামল সবুজ ঘেরা হিজলতলি নাম।
সেই গ্রামেরই মাঝখানে তাদের কুঁড়ে ঘর,
রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বসত জীবন ভর।
বাবা তার নেইকো বেঁচে থাকে মায়ের সনে,
জনম দুখী সেই মেয়েটির দুঃখ অনেক মনে ।
বাবার আদর করে বলে নেইকো তার জানা,
সেই বেদনায় ছোট্ট হৃদয় ভেঙে ফানা ফানা ।
পেট পুরে পায় না খেতে ছেঁড়া জামা গায়,
কয়খানা হাড় দেহে তার দেখী গোনা যায়।
দিনে যদি মেলে খানা রাতে অনাহারী,
এমন করে ছয়টি বছর দিচ্ছে তারা পাড়ি ।
মা করে ঝিয়ের কাজ, খানা যা' পায়,
সেই খানা মা ও মেয়ে দু'য়ে মাইল খায় ।
হঠাৎ একদিন মা জননীর আসলো গায়ে জ্বর,
দুখীর ঘরে দুঃখ এসে করলো আবার ভর ।
মায়ের পাশে বসে ঢালে মাথায় ঠান্ডা জল,
বলে খোদা শক্তি দাও বাড়াও মনোবল ।
মা শুয়ে বিছানাতে পেতে নেইকো ভাত,
না খেয়েই কেটে যায় মা ও মেয়ের রাত ।
পাড়া পরশী দেখে তাকে দেয় যে স্বান্তনা,
মনের ভুলেও খোঁজ নেই না নেই যে পেটে দানা ।
ক্ষুধার জ্বলে মুখখানা তার যায় যে হয়ে মলিন,
সে মুখ দেখে অসুস্থ মার মন হয়ে যায় দীন ।
পথ্য বিহীন মা জননী কয়দিন বেঁচে থাকে,
চির বিদায় নিলো মাতা রাবেয়াকে রেখে ।
নয়ন বাবি একলা জীবন এখন সঙ্গী তার,
পিটার দায়ে ভিক্ষা করে, দুঃখও মানে হার ।

6 comments:

  1. করিম ভাই খুব ভালো লাগলো

    ReplyDelete
  2. আপনার লেখায় মাটির স্বাদ পেলাম দাদা..............., খুব ভাল লাগল, শুভেচ্ছা নেবেন।

    ReplyDelete
  3. aapnar lekhay vinno swadh aachhe...kemon ekta sondha sondha gondho. monjure onekhon..mathar charpase norachora kore bole aaro-aaro-aaroo chai.

    ReplyDelete
  4. karim bhai Vishon valo legeche apnar lekha

    ReplyDelete
  5. thik thak technically lekha kobita.......darun laglo......chhonde chhonde bhorpur.....bah

    ReplyDelete