সঞ্জয় চ্যাটার্জী


কবিতা, অনু গল্প, গল্প প্রায় সবই লিখি ।
মূলত ২০১১ থেকে ফেসবুক এ লিখছি ।  লেখালেখি ছোটবেলা থেকেই ভালবাসি ।  ৭ বছর বয়সে প্রথম কবিতা লিখেছিলাম । এরপর কয়েকটি
গল্প লিখি, কিন্তু বাড়ীর অনুশাসনের জন্য ভয়ে কাউকে বলতে পারিনি । তাই আজ সেগুলি অন্ধকারেই পড়ে আছে । তৎসহ কবিতাও লিখতে থাকি, কিন্তু তারও তথৈবচ গতি হয় । ফেসবুকে আসার পর একদিন জনৈক বন্ধুর দেয়ালে কবি / লেখক অনুপম দাশ শর্মার কবিতা দেখে পুনরায় অনুপ্রেরণা জাগে আর সেই থেকে আজ অবদি ২৫০ এর বেশি কবিতা, গান, অনু গল্প বাংলা, হিন্দী ও ইংরাজি ভাষায় লিখেছি ।
এই বছরে (২০১৩) যে কলকাতা বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাতে প্রথম "কফি হাউসের আড্ডা" নামক গ্রুপ থেকে "কফি হাউসের আড্ডা" নামক বইতে আমার একটি কবিতা প্রকাশ পায় – অশরীরী ।
২০১২ থেকে মনের কোণে নিজের কলম এর সাথে আছি ।
এই গ্রুপ যেন একটি পরিবার । অচেনা হলেও সকলেই এত আপন, যে আমার গ্রুপটিকে খুব ভালো লাগে । এছাড়া গ্রুপ এর প্রচেষ্টা আমার ভালো লাগে ব্লগ সংক্রান্ত ব্যাপারে । এর মাধ্যমে আমরা ছোট বড় যে যেমনই কবি / লেখক হই না কেন, আমাদের লেখার বিশ্বায়ন ঘটেছে । গ্রুপকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই । 

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::: 

সুখ অসুখ

তোমার হাসির তালে তালে, ভুবন যেন উঠছে দুলে,
কও যে কথা ছলেবলে, সভা মাঝে পড়ছো ঢলে,
নেশা মেশা তোমার ফুলে, ভ্রমর আসে দলে দলে,
উষ্ণ কায়া দিয়েছো মেলে, ঘুঙুর তোমার ঝড় তোলে,
মত্ত প্রেমিক যায় যে গলে, বিশ্ব খোঁজে কোষ তলে ।
অঙ্গ-সুখে রাঙিয়ে দিলে, বাইজী এতে কি সুখ পেলে ?
বাইজী কহে শোন রে বাবু, রাঙতা মোড়া বিশ্ব আমার,
যেমন করে দেখিস তোরা, তেমনি আমি সাজি,
এই সুখেতেই সুখী তোরা, তাই এই সুখেতেই মজি ।
যখন পায়ে আমার ঘুঙুর বাজে, দুনিয়া সেই তালে নাচে,
ভুলি আপন যাতনাকে, সে মত্ততা মাঝে ।
তোরা ভালবাসারে খুঁজিস, তার কিই বা তোরা বুঝিস ?
এ দেহ সার যদ্দিন আছে, আমারে টেনে নিবি কাছে,
যেদিন এটা ফুরিয়ে যাবে, বেশ্যা বলে দিবি গালি,
এ যৌবন শুষে নিয়ে, আমারই মুখে ছড়াবি কালী ।
ভুলবি আমার ঠুমরী গজল,  ভুলবি সে সব সুখের দিন,
ভুলবি সে সব লাস্য হাসি, বেশ্যা বলেই শুধবি ঋণ !
আমার আমি মরে গেছে, শুধু খোলসটুকুই পরে আছে ।
সাজিয়ে নানা রং বাহারে, বিলিয়ে দিলাম তোদের কাছে !!

অজান্তে

কবিতায় যদি তোমায় আঁকি, তুমি কি ব্যথিত হবে ?
দেখো চেয়ে চারিদিকে, যত ছবি এঁকেছি আমি,
অজান্তেই এঁকেছি তোমার মুখ !
ওরা হাসে, কখনো কাঁদে, কখনো বা বলে ভালোবাসো !
ওরা বলে, হে চিত্রকর, তোমার তুলির টানে,
আমাদের দাও পূর্ণতা, দাও রূপ, দাও রং, দাও নব জীবন !
বদ্ধ ক্যানভাসের দুয়ার খোলো,
মুক্তির করি সাধ ও শিল্পী, আমরা মুক্তির করি সাধ !
স্বপনের মাঝে ওরা আসে ঘুরে ঘুরে,
আসে পরীর বেশে,
আমায় ঘিরে ঘিরে নাচে ওরা,
নাচে সুখে হেসে হেসে !
বলো সখী তুমি বলো হে প্রিয়া, কি করে বোঝাব নিজেকে ?
কি করে বোঝাব আমার কল্পনায়, তুমিই আসো দিবারাত্রি !
অজান্তেই যখন এঁকে ফেলি আমি, তোমার মুখখানি,
তোমারই আবেশ জড়ায় আমায়, সকল কাজের মাঝে,
জানো না তো তুমি অজান্তেই আমি, তোমাকেই বেসেছি ভালো,
তোমাকেই মানি আপন আমার, তোমাকেই বাসি ভালো !

চিরকুট

ঘুমের ঘোরে বিছানা হাতড়েছিলাম ।
সকালের নরম আলো হয়তো পথের ভুলে,
এসে পড়েছিল আমার বিছানায় ।
রাতের মধুরতার আবেশ জড়িয়ে
হাতড়েছিলাম বিছানা;
চোখ খুলে অবাক হলাম, সে নেই পাশে ।
পরিবর্তে পেলাম একটি চিরকুট !
দুটি কথা - সকালের নির্মলতা ভেঙ্গে দিলো,
তছনছ করে দিলো মনটাকে !
"ভালো থেকো । আর হবে না দেখা ।"
দেয়ালে বাধানো ফ্রেমে নীতা, আজ নেই !
এ মায়ার বন্ধন ছেড়ে সে ফিরে গেছে,
অনন্ত মহামায়ায় লীন হয়ে গেছে ।
এ পৃথিবীর সুখ, হয়তো তার কাছে ছিল সামান্য !
কিম্বা, হয়তো আমারই ছিল দোষ !
আমার লাম্পট্যে যে বিষ ছিল !
ধৈর্যচ্যুতা হয়ে সে বিদায় নিয়েছিল ।
প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, জীবনে নারীসঙ্গ, আর না ।
জানিনা কি হয়ে গেল তাকে দেখে !
তার প্রজ্জ্বলিত যৌবন, আকর্ষক শরীরী ভাষা,
চাহনিতে রিরংসার বহ্নি, ঠোঁটের মাদকতা,
আমার সমস্ত চেতনাকে ধূলিস্মাৎ করে দিলো,
এক নিমিষে করে দিলো দুর্বল !
তার সম্মোহনী চাহনিতে পরাস্ত হলাম ।
ভুলে গেলাম সমস্ত শপথ !
সেই উন্মাদনা গত রাত্রেও ছিল ।
সে চেয়েছিল সঙ্গ, আমিও পারি নি ফেরাতে ।
ভেসে গেছি জোয়ারে; সে, আমি ও আমার শপথ !
উন্মত্ত নৈস্বর্গীক চাঞ্চল্যতায়,
দুটি অতৃপ্ত আত্মার বুভুক্ষু উদ্দীপনা,
একই বিছানায় মিলিত অমোঘ সঙ্গমে ।
একটি চিরকুট, সব ভেঙ্গে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়ে গেল !
আর বলে গেল, "ভালো থেকো । আর হবে না দেখা ।"
নীতা, আজও কি পারবে তুমি, ক্ষমা করতে ?

শ্রীচরণেষু মা 

কত দিন পরে তারাদের মাঝে,
আজ মাগো তোমাকে দেখতে পেলাম,
আজ বহু বছর পরে আবার,
দুধ দিয়ে ভাত খেলাম...!!
সাজিয়ে দিতে সর ভরা বাটি মাগো,
তুমি আমার থালার পাশে,
খাবার শেষে সেই সরটুকু,
খেতাম তৃপ্ত আশে !
বছর ঘুরে বছর গেছে,
গেছি ভুলে সে সব খাওয়া,
তুমিও নেই, বলেও না কেউ,
"তোর পানে যায় না ফিরে চাওয়া !
কি করেছিস শরীরটাকে,
দেখিস ভালো করে,
খাবার শেষে দুধ ভাত খেতিস,
সেটাও দিয়েছিস ছেড়ে ?
দিন কে দিন আর কত ধকল,
সইবি ওরে তুই ?
আয় রে বাছা, আয় রে তোকে,
আমি কান্না দিয়ে ধুই !"

18 comments:

  1. খুব সুন্দর শুভেচ্ছা রইলো

    ReplyDelete
  2. খুব ভালো লাগল......অনেক শুভেচ্ছা রইল

    ReplyDelete
  3. দারুন লিখেছো ।।সুন্দর ভাবাবেগ।। অসাধারন শব্দচয়ন।।

    ReplyDelete
  4. besh Sundor lekha............. Suvechchya neben kobi.

    ReplyDelete
  5. খুব সুন্দর ছন্দময় লেখা ...অনুভূতির সুন্দর রূপায়ণ ...ভালো লাগলো ।।

    ReplyDelete
  6. ha ha ha.....khub bhalo laglo kobita gulo....darun......god bless u...

    ReplyDelete
  7. খুব ভালো লাগলো প্রতিটা লেখা ... অনেক শুভেচ্ছা রইলো :)

    ReplyDelete
  8. অসাধারণ লেখা! ভালো লাগলো।

    ReplyDelete